Published : 09 Aug 2026, 03:16 AM
বর্ষার আগমনী সুর আর মেঘে ঢাকা আকাশের পটভূমিতে শিল্পীরা এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে গীতিনৃত্য ও আবৃত্তির এক মনোমুগ্ধকর আয়োজন করা হয়, যার নাম ছিল ‘বর্ষামুখর শ্রাবণসন্ধ্যা’। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য এবং আবৃত্তির মাধ্যমে বর্ষার আগমনী বার্তা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আবহমানকাল থেকে বর্ষা প্রকৃতির বুকে এক নতুন জীবন দান করে। গ্রীষ্মের রুক্ষতা শেষে বর্ষার অবিরাম ধারা মাটিকে সজীব ও স্নিগ্ধ করে তোলে। কবিদের মনেও এই ঋতু সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কাব্যে-সংগীতে বর্ষাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন, এবং সেই কালজয়ী সৃষ্টি দিয়েই সাজানো হয়েছিল এই শ্রাবণসন্ধ্যার আয়োজন। অনুষ্ঠানটি সমবেত কণ্ঠে ‘আহ্বান আসিল মহোৎসব/ অম্বরে গম্ভীর ভেরিরবে’ গানটি পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয়। এরপর গানে গানে আড্ডা (ছোটদের দল) এবং নৃত্যাঞ্চল-এর সহযোগিতায় সমবেত সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন গান, যেমন ‘আজ তালের বনের করতালি’ এবং ফারজানা অপরাজিতার একক পরিবেশনা ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা’। এছাড়াও ‘গহন ঘন ছাইল/ হৃদয়ে মন্দ্রিল ডমরু’-র সঙ্গে সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যার পরিবেশ আরও মধুর হয়। একক কণ্ঠের শিল্পীদের মধ্যে অনুপম কুমার পাল, জেসমিন রোজ, মৌমিতা পাল এবং সৌরভ শিকদার ছিলেন অগ্রগণ্য। পাঠ ও আবৃত্তিতে অনন্যা সাহা ও হাফিজুর রহমান অংশ নেন।
‘আষাঢ় কোথা হতে আজ পেলি ছাড়া’ গানটির সঙ্গে নৃত্যপরিবেশনা ছিল এক বিশেষ আকর্ষণ। সমবেত গানে আরও পরিবেশিত হয় ‘এসো এসো ওগো শ্যামছায়া ঘন দিন’, ‘তিমির অবগুন্ঠনে’, ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ এবং ‘আজি বর্ষারাতের শেষ’-এর মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া গানগুলো। এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী লিলি ইসলাম, নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ এবং স্নাতা শাহরিন।।